বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন
সামান্য বৃষ্টি, মহেশখালীতে পানির নিচে জীবন!
অনলাইন ডেস্ক
সামান্য বৃষ্টিতে যেন নেমে এলো মহেশখালীতে ছোটখাটো জলপ্রলয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও মাত্র ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই উপকূলীয় এই জনপদ পানিতে তলিয়ে গেছে, তাতে যেন প্রকৃতির অসহায় শিকার হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ৩ ফুট বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে, যার সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি।
কুতুবজোম, মাতারবাড়ি, সাইরার ডেইল, ধলঘাটা এবং ছোট মহেশখালী—এই অঞ্চলের রাস্তাঘাট, শত শত ঘরবাড়ি ও দোকানপাট হঠাৎ করে জোয়ারের পানিতে ডুবে যায়। ভেঙে পড়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। চারদিকে শুধু পানি আর ভাঙনের শব্দ। সকাল থেকে শুরু হওয়া লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তোলে। অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন।
সবচেয়ে করুণ ঘটনা ঘটে কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙা এলাকায়। সেখানে বৃহস্পতিবার সকালে পানিতে ডুবে প্রাণ হারান দানু মিয়া নামের ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। পরিবার জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে ভুগছিলেন। দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় বদরখালী নৌ-চ্যানেলে থাকা বহু মাছ ধরার ট্রলারের জাল ছিঁড়ে গেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মুখে পড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা বাধ্য হয়ে তীরে ফিরে আসেন। জেটিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, অনেকে বসে ছেঁড়া জাল মেরামতের কাজ করছেন। জেলেদের ভাষায়, এমন অবস্থায় দৈনিক খরচও উঠছে না, বরং নতুন করে ঋণে জর্জরিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জালিয়াপাড়া এলাকার সোনা মিয়া বলেন, “আমার শেষ সম্বল ছিলো ঘরটা, সেটাও এখন সাগরের পেটে যাচ্ছে।” তার পরিবার গত রাতটা নির্ঘুম কাটিয়েছে আতঙ্কে। অন্যদিকে, একই গ্রামের রহিমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিবছরই এমন হয়। বেড়িবাঁধ না থাকায় পানির তোড়ে ঘরে ঢুকে সব কিছু নষ্ট হয়ে যায়।” তারা দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
অবস্থা এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌরুটে সী-ট্রাক চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের উপকূলবর্তী এলাকা থেকে মানুষজনকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং দুর্গত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেদায়েত উল্যাহ জানান, “বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকেছে, বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং দুর্যোগ পরবর্তী সহায়তা দিতে মাঠে রয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি, বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”